ভাবালু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভাবালু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৫

ব্যাকডেটেড


হিজিবিজি সময়ে, ভেরি বিজি সকলে,
আয়োজনে জোৎস্না, তাই যায় বিফলে।

গাড়ি চড়ে বড় বাবু, লেখা পড়া কবে শেষ,
জানালায় চোখ নাই, অবিরত ফোনে বেশ!

ঘর কোণে আরামে, আলাপের চাইল-ডাইল,
গোলামীর ফোন বাজে, মিটিংএ ডাকে কাইল।

পার্ক-বন নদী-লেক, গেল নাকি ঘুরবে,
সেলফির ক্রেজ ভিড়ে, শিরে খুন চড়বে।

চিৎকার বিপদের, হেল্প হেল্প বলে কে?
মরুকগে করি ক্লিক, ফেসবুকে তুলে দে।

এলিয়েন হয়ে ভাবি, এলাম রে এ কোথা!
পুরাতন বোধ সবি, ঝেড়ে বাঁচ্ হে বোকা।

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০১৫

ভালবাঁশে ভালবাসা

কাঁচা হলে ফাঁটাফাঁটি,পাকা হলে হয় যুৎ,
শক্ত ও বাঁধনেতে, ভাল বাসা নাই খুঁত।

ভুল বুঝে যেও নাকো, ভালবাসা জারি থাক,
জেনে রেখো সখা ওগো, বাঁশ নিয়ে এ আলাপ।

জীবনের পদে পদে, বাঁশ নিয়ে করি বাস,
জানাবার আগ্রহে, আকুপাকু হাঁসফাঁস।

ঐ সেদিনের কাজলা দিদি, সঙ্গে ছিল বাঁশবাগান,
ইদানিং ঐ কেল্লাবাঁশের, ছাগের লাদি খুব বিলান।

লেখাপড়ার শক্ত বাঁশে, জীবন যাপন হয় তিতা,
সফলতায় বাঁশ হজমে, মিষ্টি খাওয়ায় কার পিতা।

কাঁচা বাঁশে প্রেমের ঘুণে, ফিউচার হয় ফকফকা,
পাঁকা বাঁশের ইটিশ পিটিশ, পরকীয়ায় সব ধোকা!

বাঁশের চাটাই, বাঁশ খাটিয়া, রওনা হলেন কোনখানে,
জীবন শেষেও সব বাঁশময়, বাঁশ হৃদয়ে প্রেম আনে।

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ভালোর রকমফের

অনেক ভালোর রকমফেরে, ওলটপালট চিন্তা,
ভাবতে বসে চুল্কে মাথা, কাটলো যে এই দিনটা।

যাচ্ছে ভালো চোর চোট্টার, বাকবাকুম ঐ চামার,
ভেজালেতে লাল কারবার, কী এসে যায় আমার!

বস এসে খুব বললে হেসে, হবেই ভালো সবার,
আশার বেলুন চুপসে দেখি, হচ্ছে এ কী! ভাগাড়!

অকর্মা আর চোর-চোট্টায়, উপচে তেলের ভান্ড,
অয়েল ম্যাসাজ চলছে জোরে, দেখছি বসে কান্ড!

হচ্ছে ভালো সত্যিই তো, এই আকালের যুগে,
ডান্ডা ছাড়াই ঠান্ডা করা, অসম্মানে ভুগে!

চামচিকাদের লাত্থি খেয়ে, ভালই যদি হয়,
কাদায় নেমে যুদ্ধ করা, কম্ম মোদের নয়।

ভালোর ভারে ঘুরছে মাথা, নাইকো ভালোর শেষ,
ভাগতে হবে সব গুটিয়ে, এটাও ভালো বেশ।

সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৫

প্রবাদ ভুল হলে

কুতকুতে কয়লায়, ধুয়ে সব ময়লায়,
আজ আহা ফটফটে, ফিট-ফাট বাবু ...
ঝকমকে স্মার্ট গাই, স্যূট-বুট সাদা টাই,
কয়লাকে আজ দেখে, প্রবাদটা কাবু!

পুরাতন দুরে যাক, একালের ওস্তাদ,
ধবধবে ক্লিন দেখে, উছলায় সুখে ...
কয়লার সাথে মিশে, যন্ত্রনা নয় বিষে,
রাজি নয় সন্দেহে, খৈ ফোটা মুখে।

প্রবাদটা হলে ভুল, কিছু নয় ভণ্ডুল,
তানাহলে দেখা ফের, ধরা খাওয়া দল,
বার বার ঠেকে শেখা, বোকা সাজা তাই সখা,
সিঁদুরে ও মেঘ দেখে, কী যে করি বল?

শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৫

নয়া বছর স্বাগতম

নতুন বছর পাগলা ঘোড়া,
বাড়বে সকল দাম,
পিষ্ট আবার আম জনতা,
গরীব হওয়া কাম।

উঠবে বেড়ে চামচা নেতা,
আর ঠগীদের দল,
সব হারাবে বেকুব বোকা, 
লোভ করারই ফল।

বাঁধবে আশায় বুক সকলে,
সুদিন বুঝি হবে,
কাজ না করে খুব কামানো?!
খুলবে এ চোখ কবে?

মরবে কলু, মরবে বলদ,
রক্তচোষা মশা,
শূণ্য মেধায়, ফলতো ভাল,
বুদ্ধি হিসাব কষা।

সব রাবিশে ভর্তি মালে,
কিছুই বোঝেন নারে,
হাজার কোটি লৈয়া হাপিস,
আবার হতেও পারে।

এই বছরে লক্ষ্য যে ঠিক,
গড়বো ঠগের দল,
একসাথেতে লুটবো হেসে,
খুঁজবো মামা চল।

==
ফুটনোট:
১। নতুন পে-স্কেলে যথারীতি মূদ্রাস্ফীতি ঘটাবে। কিন্তু আমার বেতন তো আর সেই হিসেবে বাড়বে না ... সুতরাং ... ... কোড রেড, মে-ডে মে-ডে
২। কাম-কাজ ছাড়াই টাকা কামানো যায় -- জ্বী, আমাগো বেশিরভাগ শেয়ার বেবসায়ী এই ধরণের মানসিকতার বেকুব (সরি ফর দা হার্ড ওয়র্ড); আবার তাঁদের ধরা খাওনের টাইম আসন্ন
২-১। যথারীতি আমাদের অর্থের মাথা এইসব কিচ্ছু বুঝবেন না; বেকুবরা ধরা খাবে, আর তার দায় তিনি নিবেনই বা কেন!
৩। গেল বছর বেশ ভাল রকম ব্যাংক-লুট, পুকুর-চুরি ঘটেছে। এবছর নিশ্চয়ই লুট করার আরো উন্নততর ভার্সন পাবো।
৪। মেধার বন্যায় ভেসে যাচ্ছে দেশ; খরার মত বন্যাও খ্রাপ জিনিষ।
৫। মূদ্রাস্ফীতির বাজারে চুরি ডাকাতি করা ছাড়া টিকে থাকা যাবে কি না এই চিন্তায় অস্থির ... ...
৬। সবাইকে নয়া বছরের চিন্তায় অস্থির শুভেচ্ছা ... ...

বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৪

বিদায়ের অভিমান

একদম যাচ্ছি যে চলে আজ বাড়ি,
সুযোগ আর পাবি নাকো দিতে কোনো ঝাড়ি।
ভালবাসা স্মৃতিগুলো যদি মনে পড়ে,
ভেসে যাবে কিছু পরে, আঘাতের ঝড়ে।

খুঁজে খুঁজে এর পরে যদি কিছু পাস,
বেঁধে রাখ বাহুডোরে দুরে রেখে বাঁশ।
হয়তোবা উঁকি দিয়ে মাঝে যাব দেখে,
লোক বদলের মাঝে যদি কিছু শেখে ...

কভু যদি ভুলে দিস মোর জুতা পায়,
বুঝবি কী যন্ত্রণা জমা আছে তায় ...
অবুঝের ত্যাড়া ঘাড়ে বুঝেছিলি যা,
দেখে নিস কত ব্যথা দিয়েছিলো তা।

রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৪

হাটুরে জ্যামে বিদগ্ধ পংক্তিমালা

১।
খলবলিয়ে হাসছে দেখি, গোস্ত খাওয়ার দল,
ছাগল গরু কাটবে সবে, সবই ত্যাগের ছল।
বন্যা খুশির উপচে পড়ে, পশুর অবোধ কান্না,
রক্ত প্লাবন মধুর নাকি, চড়বে হাঁড়ির রান্না।

২।
রাস্তাটা ভরে গেছে গরু আর ছাগলে,
জ্যামে শান্তির বায়ু - কয় কোন পাগলে?

৩।
মেইন রাস্তায় পশুর হাটে,
নাইওর গেছে শৃংখলা,
যেমন ইচ্ছা যেথায় খুশি,
সভ্যতারে কাঁচকলা।

৪।
জুম্মা-দুপুর রাস্তা বন্,
লোকদেখানি মোল্লা,
কৈতে গেলে নামায় দিবো,
এক কোপে মোর কল্লা!

থাকুক জ্যামে আটকে সবাই,
হোক রোগী কি শিশু,
ধর্ম-বর্ম ভীষন ঝাঁঝের,
বলার আছে কিসু?!

৫।
ট্যাকের গরম বিরাট পশু,
ত্যাগের কি গো ছিরি,
এক দিনেতে হইলো প্রিয়,
গাঞ্জা নাকি ফিরি!

৬। ( রিপিট + কপি )
মনের পশুরে কর জবাই,
বাঁচে পশু, বাঁচে সবাই।

শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০১৪

বাড়াবাড়ি'র দূঃখ

সবে মিলে রে রে করে, বলছে যে কমাতে,
সুন্দর বেড়ে ওঠা, জোর করে দমাতে ... ...
আরে বাবা, বাড়ুক না; তোমাদের ক্ষতি কী?
দাবী-দাওয়া, হুমকীটা; দেবে নাকো যতি কি?

বেড়ে বেড়ে আকাশটা, ছুঁলে কী বা এসে যায়,
অসুবিধা নাই তব, নিশ্চয়ই দেবে সায়!
প্রতিদিন এক গান, রেকর্ডটা ভাঙ্গা এক,
আগে বেড়ে কেউ কবে, করেছে কি কামব্যাক?

কান পোঁকা হাঁসফাঁস, আর কত শোনা যায়,
জানো যদি উপায়টা, বলে যাও আমা তায়।
এইবার পিছু টান! হও কেন ভাগারাম?
বাড়াবাড়ি কমানোর, দিয়ে যাও সামাধান।

শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

সংযম

সদা ভাবে, কি যে খাবে, সারাদিন রাঁধে,
লোল ঝরে, ক্ষুধা স্মরে, মন রাঙা স্বাদে।
খাওয়া নাই, ফাঁকি তাই, কাজে কামে ঢিলা,
ভাবি তাই, কোথা যাই, মেজাজটা বিলা!

চেটে খায়, সন্ধ্যায়, আলিশান ভোজ,
ভাজা খায়, মজা পায়, হালিমটা রোজ।
ভুড়ি গোল, খেয়ে ঢোল, তবু রোল চায়,
ভূণা শোল, ঢিলা ঝোল, সাথে ঘোল খায়।

হরদম, সংযম, করে বুড়ো-খোকা,
করে ঢং, রেগে টং, বাজারেতে ধোকা!
বেশি দাম, হয়রাণ, তবু কেনা চাই,
এর নামই, সংযমী, মনে রাখা চাই!

মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০১৪

পথের শের

পথে যানজট ভীড়ে, চলছে সবাই ধীরে,
ব্যগ্র সবে নিজকে নিয়ে, ফিরবে আপন নীড়ে।

দাঁড়িয়ে থাকে ঠাঁয়, রোগীর গাড়ি হায়!
ইতর জটে মরলে মরুক, কার কী আসে যায়!

অসভ্যতার ফেউ, ছাড় দেবে না কেউ,
নিজের ফাঁদেই পড়ছে সবে, কাঁদিসনা ভেউ ভেউ।

ও চাবুক খাওয়া ভক্ত, বুঝতে পারা শক্ত?
সময় হল সভ্য হওয়ার, শুদ্ধ কর রক্ত।

==
সোয়া-সের for শোয়া-শের: ৪টি ভিন্ন অনুচ্ছেদ আলাদা আলাদা শের এর মত করে পড়া যেতে পারে।
সোয়া = শতকরা ২৫ ভাগ বেশি
শোয়া = শায়িত অবস্থা
সের = ওজনের পরিমাপ
শের = বাঘ, সিংহ; ফার্সি ও উর্দূ ভাষার দুই লাইনের কবিতা

বুধবার, ২১ মে, ২০১৪

হাবুডুবু কাজে

লোকটা ডুবে কাজের চাপে, 
ফুসফুসে তার নাই বাতাস, 
আফসোসেরও সময়টা নাই, 
বুক ভরে চায় একটু শ্বাস। 
       
অভাব জ্ঞানের সাঁতার কাটা, 
জীবনখানাই হয় মিছে, 
ভাবছে বাঁচার চেষ্টা নিয়ে, 
পালাবে এক দৌড়-খিঁচে। 
       
দৈবগুণে হয়তো হঠাৎ, 
ক্ষণিক ভাসা ঐ নীলে, 
আনন্দে নেয় বুকভরা শ্বাস, 
উড়ছে যেন গাঙচিলে। 
       
অন্ধকারে থাকছে বলেই, 
মূল্য বোঝা এই আলো, 
মুক্ত সময় কতই গেছে, 
ভাবছে বসে মুখ কালো। 
       
আকাশ বিলাস পেছন ফেলে,   
গ্রাস করে ফের সেই জলে, 
থাকলো পরে স্মৃতির চাবুক, 
সমূদ্র নীল সেই হুলে। 
       
       
       
       


==
ব্যাখ্যা: কাজের চাপে একটু ছড়াবাজি কিংবা একটু ফেসবুক/ফোরাম/ব্লগ/পেপার খুলে দেখারও সময় পাওয়া যাচ্ছে না। সাঁতার না জানার ফলে নৌকা আরোহী পণ্ডিতের যেমন পুরা জীবনাই মিছে হয়ে যায়, তেমনি কাজের সমুদ্রে সাঁতার না জানাটাও একই রকম প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। হঠাৎ করেই হয়তো কাজ ভিলেনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মুক্তির জানালায় একটু সময় কাটানো গেল। কর্মহীন অতীতে এরকম কতই ফ্রী সময় অবহেলায় কেটে গিয়েছে ভেবে আফসোস হয়; একটু ছুটি যে কত দামী সেটা এখন বুঝা যাচ্ছে। ছড়া/কবিতা লেখার এই ক্ষণিকের অবসরটুকু শেষ -- আবার সেই নীল বেদনাময় কাজের জঞ্জালে ডুবতে হবে। -- ছড়াবাজ।

সোমবার, ১৯ মে, ২০১৪

বানানে হয়রান

বর্ষার ধারাপাতে নামে নাকি বিষ্টি,
কুড়ি নাকি গরল তা, শুনে ভাবি মিষ্টি।
শুনেছি ও বিষখানা, জলে নাকি গলে না,
ভেজালের জয়কারে, খেলে কেউ টলে না।

==
ব্যাখ্যা:
বেশ কিছু জায়গায় বৃষ্টিকে আদর করে বিষ্টি লেখে দেখে মাঝে মাঝে সেটা কোন শব্দের টুইস্ট সেটা চিন্তা করে ধাক্কা খেতে হয়। কাছাকাছি আরও অনেক শব্দ আছে যাদেরকে অপভ্রংশে বিষ্টি বলা যেতে পারে। যেমন:  বিষ্ঠা (পয়ঃবর্জ্য), বিশ (twenty), বিষ (গরল, বিষাক্ত দ্রব্য), বিস্ট (beast, জানোয়ার - নিষ্ঠুরতা বা গোয়ার্তূমী অর্থেও)।

শনিবার, ১০ মে, ২০১৪

ছড়ানু - ০৪

১।
এই শহরে ইট-পাথরে,
বিরাট বন্দীশালা,
আকাশ-তারা, জোৎস্না চাঁদের,
নাইকো আলোকমালা।

২।
চুঁইয়ে পড়ে কষ্টগুলো,
আদর মাখা স্মৃতি,
গভীর ছোঁয়ায় মনকে ঝাঁকি,
হুতাশ বৃহস্পতি।

৩।
ছা গুলো আর থাকবে নাকো,
উড়বে পাখা মেলে,
শুনবে নাকো পিতার কথা,
আদর সোহাগ, কিলে!

৪।
সকাল বিকাল চারবেলাতে,
সব খাবারেই আলুর জয়,
কর্তা যদি হয় আলুবাজ,
গিন্নি মনে নিরেট ভয়।

৫।
অরুণ রাঙা, আজ উদাসীন,
দিচ্ছে নাতো সান্তনা,
"যেমন খুশি", শেষ হলো আজ,
আইবুড়োদা'র যন্ত্রণা।

==
শব্দার্থ:
হুতাশ [hutāśa] বি. হতাশা দুর্ভাবনা বা আতঙ্কের অভিব্যক্তি (হা হুতাশ করা)। [< সং. হতাশ]।
বৃহস্পতি [bṛhaspati] বি. 1 দেবগুরু; 2 মহাপণ্ডিত; 3 গ্রহবিশেষ; 4 সপ্তাহের বারবিশেষ। [সং. বৃহত্ + পতি]। একাদশ বৃহস্পতি 1 (জ্যোতিষ.) জাতকের রাশিচক্রের একাদশ কক্ষে বৃহস্পতি-গ্রহের অবস্হান; 2 (আল.) অত্যন্ত শুভ বা উন্নতির সময়। বুদ্ধিতে বৃহস্পতি অতি বুদ্ধিমান। বৃহস্পতিবারের বারবেলা বি. জ্যোতিষশাস্ত্রমতে বৃহস্পতিবারের যে সময়ে শুভকাজ নিষিদ্ধ।

বুধবার, ৭ মে, ২০১৪

ছড়ানু - ০৩

১।
সব বাঁধনই ছিড়লো যখন,
ছাড়লো যমের নাও,
পড়লো মনে তখন বুঝি,
ছোট্ট বেলার গাঁও।

২।
অনেক ঝড়ের পরে,
আসলে বোঝার সময়,
ছিঁড়লো মায়ার বাঁধন,
বিদায় নিলেন চুমোয়!

৩।
হাতটা খালি পকেট ফাঁকা,
দিচ্ছি যে তাই, গা-ঢাকা।
পাওনাদার ঐ ঘুরছে দেখ,
লুকিয়ে বসে কবতে লেখ।

৪।
কাঁদিস নারে অবুঝ পোলা,
পাসনে মোটেও কষ্ট,
কত রাণীই বাড়িয়ে দুহাত,
করতে জীবন নষ্ট।
(হাত বাড়িয়ে পড়বে ঝুলে,
বুঝবি কেমন চড়তে শুলে!)
  hehe

৫।
আশায় আশায় থাকলে বসে,
হচ্ছে নাতো কিছু,
দাঁড়াও খাড়া শিরদাঁড়াতে,
নয়তো ঝুঁকে নিচু।

৬।
ইচ্ছে করে দেই যে ঘুটে,
সমাজ নামক যন্ত্র,
শান্তি সুখে উঠুক ভরে,
ছুঃ মন্তর মন্ত্র!

শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৪

এভাবেই যদি পোড়াও

খবরটা যদি দিতে, কিছুক্ষণ আগে,
লবণটা কিনে নিয়ে আসতাম সাথে।
ছিলে কেটে পুড়িয়ে, লবণের ছিটা,
দেখতাম চেখে চেটে, কতটুকু তিতা।

পুড়ে পুড়ে অঙ্গার, হলে পরে সোনা,
বড়লোক হল কি না, দেখি দিয়ে গোনা।
পুড়ে খাঁটি হলে পর, আঘাতেই শত,
বুঝতাম ভাঙে কিনা, টেকসই কত।

হৃদয়টা ভেঙেচুরে, কয়লার মত,
ময়লার অসুবিধা, আর হবে নাতো।
ইচ্ছের রাজা হয়ে, যেথা খুশি যাব,
যারে খুশি খেলিয়েই, এঁদো খুটে খাব!‌‌

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪

প্রতীক্ষায় নতুন দিন

নতুন আলোয় উঠুক জেগে, আরেকটি দিন সমুদ্দুর,
সম্ভাবনায় অসীম নিয়ে, ভণ্ডামিটা থাকুক দুর।
আবেগ চেপে আর বলোনা, মন রাখা লোক প্রিয়ংবদ,
শুভ্র হৃদে দেখলে যা তাই, বলতে হলে হোক বিপদ।
দ্বৈত-প্রমিত রাখ সরিয়ে, আজ থেকে হও সেই মহান,
বলছো যা তা নিজেও করো, কাজের মাঝে হোক প্রমাণ।
অহং ত্যাগে মানুষ বিচার, আজ থেকে হোক সর্বদাই,
উচ্চ নীচের বিভেদ রেখা, লুটিয়ে সমান হই সবাই।

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৪

ছাতা হারানোর দিনে ... ...

ছাতাটি থাকতো চুপচাপ শুয়ে,
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরতে,
নিশ্চিত মনে ভরসা ছিলেন,
স্মৃতির প্রতিটি পরতে।

মোদের জীবন করতে রঙীন,
থাকলেন সাদাকালো;
বটগাছ যথা, ছায়া শ্যামলিমা,
নিকষ আঁধারে আলো।

জলসিঞ্চনে সিক্ত কপোল,
হারানো ছাতার শূণ্যতায়,
মায়াহীন রোদে নিরূপায়ে বাড়ে,
অশ্বত্থ একা শ্মশ্রুধারায় ... ...

==
শব্দার্থ:
শ্যামলিমা - greenery, সবুজ আচ্ছাদন (?)
কপোল [ kapōla ] বি. গণ্ড, গাল। [সং. √ কপ্ + ওল]। ̃ কল্পনা বি. অবান্তর কল্পনা; গালগল্প। ̃ কল্পিত বিণ. মনগড়া (কপোলকল্পিত গল্প)।
অশ্বত্থ [aśbattha] বি. বড় গাছবিশেষ, পিপুল। [সং. ন + শ্ব + √ স্হা + অ]।
শ্মশ্রু [śmaśru] বি. 1 দাড়িগোঁফ; 2 (বাং.) দাড়ি। [সং. শ্মন্ + √ শ্রি + উ]। ̃মণ্ডিত, ̃ল, ̃শোভিত বিণ. শ্মশ্রুময়, দাড়িগোঁফে ঢাকা (শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখমণ্ডল)।

ব্যাখ্যা:
ঠিক ৪ বছর আগে এই দিনে বাবাকে হারিয়েছিলাম ... ... শেষ বয়সে চুপচাপ শুয়ে বসে কাটালেও, আমার সমস্ত অর্জনের প্রেরণা ছিলেন উনি। ওনাকে হারিয়ে অনুভব করলাম মাথার উপর থেকে অন্যতম ভরসার ছাতা সরে গিয়েছে। বেচারা সারাজীবন আমাদের জন্য কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বটবৃক্ষের মত ছায়া হয়ে ছিলেন। আজ নিজেকেই ধীরে ধীরে বটবৃক্ষ (অশ্বত্থ) ভূমিকায় নামতে হচ্ছে ...

সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৩

খাদ্য বিষয়ক অক্ষমতা

পকেট যখন থাকতো ফাঁকা,
মনটা শুধু করতো খা খা,
রুচতো মুখে সব খাবারই,
হোক সে হোটেল কিংবা বাড়ি।

চাইলেও কি থাকতো উপায়,
খাইতে খাবার মন ভোলা,
মানিব্যাগের কয়টি টাকা,
বাস ভাড়াতে থাক তোলা।

চান্সটি পেলে হঠাৎ করে,
দাওয়াত কিংবা ফিস্ট হলে,
সাঁটিয়ে দিলাম উনিশ খানা,
পরটা আর চাপ গিলে।

কিংবা ঘরোয়ার খিচুড়ি,
একবারেতেই তিনটা ফুল,
চেটেপুটে সব খাওয়াতে,
পেটুক আমি হতাম কুল।

এমন করেই কাটলো সময়,
স্মৃতিময় সেই লোলঝরা,
বয়স ভারে, শরীর কাঁপে,
মানিব্যাগে নাই খরা।

পকেট এখন থাকছে ভরে,
চাইলে পারি তিন বেলা,
চাকুম চুকুম খাদ্য যত,
ভরতে পারে এই গলা।

হাসছে বুঝি ঐ বিধাতা,
পরিহাসটা অলক্ষ্যে,
কতই ব্যামো এই শরীরে,
ডায়েট করাই যে রক্ষে!

খাদ্য নিয়ে অক্ষমতা,
থেকেই গেলো সব কালে,
হইলো নাতো কোনোবারই,
টাইমিং যে ব্যাটে-বলে।

বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০১৩

জীবনে বাঁশ

গ্রেডগুলো পকেটে, মানিব্যাগে থাকে,
যত ভাল লিখুক না, দিতে হাত কাঁপে।
বাঁশগুলো সবি ফ্রি, সরকারী মাল,
চূণটুকু খসলেই, তুলে ফেলে ছাল।

বাঁশগুলো আছেলা, বড় বড় গিট্টু,
ভেসলিন রাখ তাই, পকেটেই এক্টু।
এরপরো আছে ভাই, সময়েরই বাঁশ,
কত শত ভ্যাকেশন, জান হাঁসফাঁস।

কোনমতে পেরিয়ে, বাঁশবন পাড়া,
শুকতলি হবে ক্ষয়, চাচা-মামা ছাড়া।
সিনিয়রে তবু ছিল, পাত্রেরই দাম,
বেকারে কেবা করে, মান সম্মান।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

না দেখলে মিস করবেন

ওটা হল ট্রেড মার্ক, লাইসেন্স বেকুবির,
বিনুদুনে এই ধারা, বাগদাদী কাহিনীর।

এসেছিলো লোকটা, খলিফার কাছেতে,
চাইবে যে অনুদান, মরে সে যে লাজেতে।
পথ মাঝে পেল সে, পানি সে কি অমৃত,
মশ্কটা নিল ভরে, খলিফাকে দেবে ট্রিট।

পথি মাঝে লাক ভাল, দেখা পেল খলিফার,
দূঃখের কথা বলে, দিল সেই উপহার।
খলিফা ঢালে সেটা, গলাতে এক ঢোক,
আসলেই দারুন এটা, রাখলাম এ তবারক।

যাও তুমি ফিরে বাড়ি, বাগদাদে কী হবে,
এই নাও মূদ্রা, দূঃখ কেটে যাবে।
সভাসদ সাথে যারা, হলো খুব হতবাক,
খলিফাটা করে কি! ক্লান্তিটা ঝেড়ে যাক।

গেলে পরে লোক সেই, সঙ্গিরা বলে তায়,
খুলে বল হে জনাব, কেন এই অভিপ্রায়!
খলিফা তব বলে, শুন মোর সভাসদ,
পানি যেটা দিয়েছে, স্বাদ তার অতি বদ।

হয়তো সে লোক থাকে, এমন এক এলাকায়,
পানির এই কোয়ালিটি, আরো নুন হবে তায়।
পাঠাতাম একে যদি, বাগদাদে নাও রেস্ট,
পথে গিয়ে দেখতো সে, পানি সেথা কত বেস্ট।

লজ্জায় মরে যেত, ভেবে এই উপহার,
ফিরালাম হেথা থেকে, এই হল সমাচার।
“না দেখলেই মিস’, যাদের এই কালচার,
বুঝে নাও থাকে কোথা, করবে কী? বল আর।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম