স্মৃতিচারণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্মৃতিচারণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৪

ছাতা হারানোর দিনে ... ...

ছাতাটি থাকতো চুপচাপ শুয়ে,
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরতে,
নিশ্চিত মনে ভরসা ছিলেন,
স্মৃতির প্রতিটি পরতে।

মোদের জীবন করতে রঙীন,
থাকলেন সাদাকালো;
বটগাছ যথা, ছায়া শ্যামলিমা,
নিকষ আঁধারে আলো।

জলসিঞ্চনে সিক্ত কপোল,
হারানো ছাতার শূণ্যতায়,
মায়াহীন রোদে নিরূপায়ে বাড়ে,
অশ্বত্থ একা শ্মশ্রুধারায় ... ...

==
শব্দার্থ:
শ্যামলিমা - greenery, সবুজ আচ্ছাদন (?)
কপোল [ kapōla ] বি. গণ্ড, গাল। [সং. √ কপ্ + ওল]। ̃ কল্পনা বি. অবান্তর কল্পনা; গালগল্প। ̃ কল্পিত বিণ. মনগড়া (কপোলকল্পিত গল্প)।
অশ্বত্থ [aśbattha] বি. বড় গাছবিশেষ, পিপুল। [সং. ন + শ্ব + √ স্হা + অ]।
শ্মশ্রু [śmaśru] বি. 1 দাড়িগোঁফ; 2 (বাং.) দাড়ি। [সং. শ্মন্ + √ শ্রি + উ]। ̃মণ্ডিত, ̃ল, ̃শোভিত বিণ. শ্মশ্রুময়, দাড়িগোঁফে ঢাকা (শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখমণ্ডল)।

ব্যাখ্যা:
ঠিক ৪ বছর আগে এই দিনে বাবাকে হারিয়েছিলাম ... ... শেষ বয়সে চুপচাপ শুয়ে বসে কাটালেও, আমার সমস্ত অর্জনের প্রেরণা ছিলেন উনি। ওনাকে হারিয়ে অনুভব করলাম মাথার উপর থেকে অন্যতম ভরসার ছাতা সরে গিয়েছে। বেচারা সারাজীবন আমাদের জন্য কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বটবৃক্ষের মত ছায়া হয়ে ছিলেন। আজ নিজেকেই ধীরে ধীরে বটবৃক্ষ (অশ্বত্থ) ভূমিকায় নামতে হচ্ছে ...

শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৩

স্মৃতিচারণ – ০৫

চোখ বুজে বসেছিনু, লম্বা যাত্রায়,
নাসিকার গর্জনে, ভিন্ন মাত্রায়;
কোত্থেকে হঠাৎ এক, অদ্ভুদ সুঘ্রান,
বরবাদ নিদ্রায়, অস্থির মন প্রাণ।

মনে হল আছে সে কি, স্পর্শের নিবিড়ে,
চোখ ভরে অশ্রুতে, অনুভব গভীর এ;
হাহাকার করে মন, আজ তুমি নাই হায়,
ভেসে যাই কত শত, স্মৃতির এক বন্যায়।

যদি দেখি চোখ ভরে, সবুজ এই প্রান্তর,
মনে পড় যে তুমি, বাঁধনের হে শেকড়;
কতবার চেয়েছিলে, ফিরতে যে এ বাড়ি,
হল না তো জীবনে, দিলে ওপারে পাড়ি।

অ্যাম্বুলেন্স যদি, দেখি কোনো রাস্তায়,
স্মৃতিগুলো অস্থির, মনে শুধু ধাক্কায়;
কি যে এক আক্ষেপ, পারিনি তো বাঁচাতে,
কার প্রিয় আজ হেথা, ছাড়ি পথ তড়িতে।

লেখাপড়া হোক আর, হোক সেটা প্রমোশন,
ছুটে গিয়ে বলি কারে, মিস করি যে ভীষন;
প্রেরণায় ছিলে মোর, চেপে নিজ কষ্ট,
কত কিছু বুঝি আজ, তুমি বাবা শ্রেষ্ঠ।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৩

স্মৃতিচারণ – ০৪

ছড়াবাজ পড়েছিলো, লুঙ্গিটা সেই দিন,
নয়া নয়া বলে তাই, সামলাতে সঙ্গীন।
শয়তান সোহরাব, হ্যাঁচকা মারে টান,
ইজ্জত ফালুদা, ক্ষ্যাপে ছড়ু সেইরাম।

এক দৌড়, ঘরে এসে, হাফ প্যান্ট পড়লো,
পাকঘরে সাঁৎ করে, বটি হাতে বেরোলো।
কোপাবে যে আজ ওরে, সোহরাব বজ্জাত,
দিতে হবে বদমাশে, সেরকম যে জবাব।

দেখে খুনে ছড়াবাজে, অগ্নি মূর্তি,
দৌড়ায় জান হাতে, উড়ে যায় ফুর্তি।
মা সেটা দেখে ফেলে, বটি নিয়ে গেল কৈ?
দৌড়িয়ে বাইরে, হাঁক ডাক হৈ চৈ।

গার্ডটাই ছুটে আসে, ধরতে যে পিছু নেয়,
পারে না যে ধরতে, কিছুদুর দৌড়ায়।
সোহরাব বহুদুর, বাঁচা বাঁচা মোরে বাপ,
ছড়ুটাও ফিরলো, কমেছে তারও রাগ।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

স্মৃতিচারণ – ০৩

থাকতাম বরিশাল, বাবা সেথা চাকুরে,
টেক্সটাইল মিল সেটা, শহরের বাইরে।
মিল কারখানাটার, এলাকা আলাদা,
আবাসিক সুন্দর, আজ হবে সে কথা।

ছোটবেলা একদিন, দুপুরের পরেতে,
ফুলবাবু দুইভাই, বের হল বেড়াতে।
বাসা দুই পেরুলেই, কিছু ইট সাজানো,
তার আঁড়ে ডোবা এক, কচুরিতে ভরানো।

সাথে ছিল সোহরাব, বন্ধু সে বড়টার,
আংগুল এগারোটা, দুই হাতে ছিল তার।
বেগুনি ফুল কিছু, কচুরির পানাতে,
নিতে মনে জাগে শখ, থামবে না মানাতে।

হাত বাড়িয়ে তোলে, ফুল বেশ কষ্টে,
হেলে পড়ে সামনে, পিছলানো ক্লিষ্টে।
ছোটটার বেশি লোভ, দাদা নেব ঐটা,
পারবোনা আনতে, দেখ্ কত দুরে তা।

এইবার ছোটটা, নিজেরই উদ্যোগ
ঢালু পাড়ে পিচ্ছিল, নেমে দেয় মনোযোগ।
হড়কালো পা যে তার, পিচ্ছিল পাড়ে ঐ,
সুড়ুৎ আঃ, ঝপ্পাস, দাদা ধর্, গেলি কৈ।

এক হাত ধরে বড়, এক হাত সোহরাব,
উপরের পানে টানে, হয় না তো কোন লাভ।
সোহরাব পেল ভয়, নির্ঘাৎ টানে ভুত,
দৌড়িয়ে পালালো, দাদাটার ধুকপুক।

ছাড়তে কি সে পারে, আদরের ছোট ভাই,
প্রাণপনে টানে যে, ছাড়বে না কিছুতেই।
পায়নিসে কখনই, হারানোর এ্যাত ভয়,
কাদাতে মাখামাখি, ভুতেরই পরাজয়।

মা দ্যাখে এল কে রে, দুইটা ছোট ভুত,
পাঠালাম টিপটপ, ঘটনা তো অদ্ভুদ!
কিল, চড়, থাপ্পর, পিঠে পড়ে ধুপ ধাপ্,
ধোলাইয়ে মন ভার, ছোটু তুই বেঁচে থাক।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৩

স্মৃতিচারণ – ০২

দুপুরের নীলাকাশ, ঝরছে যে ঠা ঠা রোদ,
বাড়ি দুর এক ক্রোশ, শামসুটা গেলে ঢোক।
ইশকুল ফেরা পথ, আমগুলো টস্ টস্,
মাটি ফলে গড়াগড়ি, না খেলে সবই লস।

খিদে পেট চোঁচোঁ তাই, চিন্তাটা ছিলো বাদ,
ঢুকে যায় বাগানেতে, অমৃত! কি যে স্বাদ!
শান্তি কি উদরে, লেগে গিয়েছিলো চোখ,
বাঁধা পরে হাত-পা, পাহারায় ছিল লোক।

মালকিন ছুটে এল, চোর ধরা খবরে,
বুড়িটার ভারি তেজ, চোখ জ্বলে গরলে।
চাষার ঐ ব্যাটা তুই, কোথা পাস এ সাহস,
কচি মুখ, মায়া চোখ, সহসাই কমে রোষ!

বল্ ব্যাটা, কোথাকার? কী করে বাপ তোর?
: মিঞা পাড়া দুর গ্রাম, বাপে হেড মাস্টোর।
বুড়িটা কি থমকালো? কাঁপলো কি কন্ঠ?
বল্ তোর দাদা কে রে? ব্যাকুল, উৎকন্ঠ …

নুরুজ্জামান মিঞা, শুনে বুড়ি হতবাক,
কেঁদে ফেলে ঝর ঝর, দড়ি খোলে কাঁপা হাত।
কে আছিস? পানি আন, পাশে মোর বস তুই,
জানিস কি ও মানিক, আমি তোর কে যে হই?

কী নিবি, যত খুশি, নিয়ে যা ও বাড়িতে,
ইশকুল আসা পথে, খাবি এই হাড়িতে।
কত যুগ হয়ে গেল, দেখি না যে ঐ ঘর,
ঘোড়া চড়ে দুজনে, জোৎস্নায় পথ ভোর।   

সংসার দুজনার, হল সব বিরহ,
সন্তান নাই তাই, করে ফের বিবাহ।
এই ছিল তোর মনে, করবো না তোরে ভাগ,
চললাম আমি এই, স্মৃতিগুলো সাথে থাক। 

অতীতটা এই ছিল, শামসুর বোকা বাপ,
সৎ মাকে নিয়ে আসে, একটু তো ঘুরে যাক।
ঘুরে ঘুরে বাড়ি দেখে, ছেড়েছে যে অধিকার,
অভিমান যার তরে, সে লোকই পরপার।

কাঁদে কবরের পরে, গলাগলি বুড়ি দুই,
সন্তান, নাতি হল, বোকা নিজে গেলি কই?
শামসুটা পিতা মোর, শেকড়টা ও বাড়ি,
বুড়িগুলো ছিল তাই, দাদীমার শাশুড়ি।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৩

স্মৃতিচারণ-০১

কোন এক সকালে, আম তলে ধুপ ধাপ,
মেজোটাতো দেয় দৌড়, ছড়াবাজ চুপচাপ।
আম ফেলে কেরে ঐ, ভাবছে সে দাঁড়িয়ে,
দাদী কয়, গাধা নাকি?! আন ওটা কুড়িয়ে।

মগজেই আসে না, আম কে গো ফেললো?
শেষমেষ কাঁচুমাচু, দাদীকেই বললো।
দাদী ভাবে সেরেছে, এ ব্যাটার কী হবে
ফিউচার ফকফকা, আলবৎ গবেট-এ।

আসলে তো বোকা নয়, একটু কি ভাবালু
রাখ্ তোর এ লজিক, তু হামাক কী কলু?
মেজটাতো এনে আম, কাটাকাটি খাওয়া শেষ
ছড়াবাজ তখনও, ভেবে যায় সবিশেষ।

মেজগুলো হয় নাকি, সবচেয়ে চাল্লু
দাদা যে, গাধা সে – জানে সব উল্লু।
ছড়াবাজ এখনও ভাবাভাবি করে খুব,
ছড়া লিখে কীভাবে, এ যে বড় অদ্ভুদ।

দাদীটা আজ নাই, থাকলে তো দেখতো,
ছড়াবাজ হল শেষে, বিদ্যান ব্রত্য।
দাদী তুমি আছ শুয়ে, ছোট ঐ কবরে
Geneএর এই সাকসেস, রাখ নাকি খবরে?

মুখে তেল চুপচুপে, বাবা দিলো একি সাজ!
বলে তুই ছড়াবাজ, বিদ্যারই ও জাহাজ!!
টাইটেল পেয়ে সেই, ছড়াবাজ কি খুশি!
লাফ দেয় উঁচুতে, মুঠি হাত দু ঘুষি।

বাবাটাও আজ নেই, চুমে নিল বাই বাই,
চুম্বন বিদায়ের, গাধারাম বুঝি নাই।
পরদিন সব শেষ, ঝাঁপসা এ যাতনা,
ছাতা ছিলে এ মাথার, ছিলে মোর প্রেরণা।

প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম