দুপুরের নীলাকাশ, ঝরছে যে ঠা ঠা রোদ,
বাড়ি দুর এক ক্রোশ, শামসুটা গেলে ঢোক।
ইশকুল ফেরা পথ, আমগুলো টস্ টস্,
মাটি ফলে গড়াগড়ি, না খেলে সবই লস।
খিদে পেট চোঁচোঁ তাই, চিন্তাটা ছিলো বাদ,
ঢুকে যায় বাগানেতে, অমৃত! কি যে স্বাদ!
শান্তি কি উদরে, লেগে গিয়েছিলো চোখ,
বাঁধা পরে হাত-পা, পাহারায় ছিল লোক।
মালকিন ছুটে এল, চোর ধরা খবরে,
বুড়িটার ভারি তেজ, চোখ জ্বলে গরলে।
চাষার ঐ ব্যাটা তুই, কোথা পাস এ সাহস,
কচি মুখ, মায়া চোখ, সহসাই কমে রোষ!
বল্ ব্যাটা, কোথাকার? কী করে বাপ তোর?
: মিঞা পাড়া দুর গ্রাম, বাপে হেড মাস্টোর।
বুড়িটা কি থমকালো? কাঁপলো কি কন্ঠ?
বল্ তোর দাদা কে রে? ব্যাকুল, উৎকন্ঠ …
নুরুজ্জামান মিঞা, শুনে বুড়ি হতবাক,
কেঁদে ফেলে ঝর ঝর, দড়ি খোলে কাঁপা হাত।
কে আছিস? পানি আন, পাশে মোর বস তুই,
জানিস কি ও মানিক, আমি তোর কে যে হই?
কী নিবি, যত খুশি, নিয়ে যা ও বাড়িতে,
ইশকুল আসা পথে, খাবি এই হাড়িতে।
কত যুগ হয়ে গেল, দেখি না যে ঐ ঘর,
ঘোড়া চড়ে দুজনে, জোৎস্নায় পথ ভোর।
সংসার দুজনার, হল সব বিরহ,
সন্তান নাই তাই, করে ফের বিবাহ।
এই ছিল তোর মনে, করবো না তোরে ভাগ,
চললাম আমি এই, স্মৃতিগুলো সাথে থাক।
অতীতটা এই ছিল, শামসুর বোকা বাপ,
সৎ মাকে নিয়ে আসে, একটু তো ঘুরে যাক।
ঘুরে ঘুরে বাড়ি দেখে, ছেড়েছে যে অধিকার,
অভিমান যার তরে, সে লোকই পরপার।
কাঁদে কবরের পরে, গলাগলি বুড়ি দুই,
সন্তান, নাতি হল, বোকা নিজে গেলি কই?
শামসুটা পিতা মোর, শেকড়টা ও বাড়ি,
বুড়িগুলো ছিল তাই, দাদীমার শাশুড়ি।
===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম
বাড়ি দুর এক ক্রোশ, শামসুটা গেলে ঢোক।
ইশকুল ফেরা পথ, আমগুলো টস্ টস্,
মাটি ফলে গড়াগড়ি, না খেলে সবই লস।
খিদে পেট চোঁচোঁ তাই, চিন্তাটা ছিলো বাদ,
ঢুকে যায় বাগানেতে, অমৃত! কি যে স্বাদ!
শান্তি কি উদরে, লেগে গিয়েছিলো চোখ,
বাঁধা পরে হাত-পা, পাহারায় ছিল লোক।
মালকিন ছুটে এল, চোর ধরা খবরে,
বুড়িটার ভারি তেজ, চোখ জ্বলে গরলে।
চাষার ঐ ব্যাটা তুই, কোথা পাস এ সাহস,
কচি মুখ, মায়া চোখ, সহসাই কমে রোষ!
বল্ ব্যাটা, কোথাকার? কী করে বাপ তোর?
: মিঞা পাড়া দুর গ্রাম, বাপে হেড মাস্টোর।
বুড়িটা কি থমকালো? কাঁপলো কি কন্ঠ?
বল্ তোর দাদা কে রে? ব্যাকুল, উৎকন্ঠ …
নুরুজ্জামান মিঞা, শুনে বুড়ি হতবাক,
কেঁদে ফেলে ঝর ঝর, দড়ি খোলে কাঁপা হাত।
কে আছিস? পানি আন, পাশে মোর বস তুই,
জানিস কি ও মানিক, আমি তোর কে যে হই?
কী নিবি, যত খুশি, নিয়ে যা ও বাড়িতে,
ইশকুল আসা পথে, খাবি এই হাড়িতে।
কত যুগ হয়ে গেল, দেখি না যে ঐ ঘর,
ঘোড়া চড়ে দুজনে, জোৎস্নায় পথ ভোর।
সংসার দুজনার, হল সব বিরহ,
সন্তান নাই তাই, করে ফের বিবাহ।
এই ছিল তোর মনে, করবো না তোরে ভাগ,
চললাম আমি এই, স্মৃতিগুলো সাথে থাক।
অতীতটা এই ছিল, শামসুর বোকা বাপ,
সৎ মাকে নিয়ে আসে, একটু তো ঘুরে যাক।
ঘুরে ঘুরে বাড়ি দেখে, ছেড়েছে যে অধিকার,
অভিমান যার তরে, সে লোকই পরপার।
কাঁদে কবরের পরে, গলাগলি বুড়ি দুই,
সন্তান, নাতি হল, বোকা নিজে গেলি কই?
শামসুটা পিতা মোর, শেকড়টা ও বাড়ি,
বুড়িগুলো ছিল তাই, দাদীমার শাশুড়ি।
===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন