শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৪

হাবিজাবি

কিডা কিডা কবে জানি কিতা কতা কৈছে,
ইংরাজি গালাগালি, ম্যালা ভাব লৈছে ...
একবার বাটে পাই, চামে যদি মহাজন,
এমুনই সাইজ দিমু, রবে মনে আজীবন।

ফুটফাট ইংরাজি ঝাড়ে যবে আক্কাস,
ইসমাট ভাবে নিজে, লাগে নাকি ঝাক্কাস ...
আঁধারেও সানগ্লাস চোখ থেকে নড়ে না,
গরমেও সুট-টাই, গাধা গাছে ধরে না!

আপঝাপ চাপা ঝেড়ে মাঝে সাঝে ধরা খায়,
প্যান্টের খোলা চেন, সবে দেখে হাসে তায়!
ঝোল-ডাল-ভাত খাবে চাইনিজ কাঠিতে,
ঝড়ো হাওয়া স্ট্যান্ড ফ্যানে পরচুলা মাটিতে!

বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৪

ব্রাঞ্চ বিলাস

সিরকা পেঁয়াজ শশা,
ফুড শপেতে বসা,
ফুস্-পানি না লাচ্ছি?
বোরহানী আর কাচ্চি!

ডিম সাথে হাফ-চিকেন,
সাফ্-সুতরা কিচেন,
ঝোলের মাঝে চুল,
মাফ করা যায় ভুল?!

ফল, ফালুদা, জুস,
বিড়ির ধোঁয়া ফুস,
লালচে পানের পিক,
জর্দা ঘিলুর কিক্।

সবার শেষে বিল,
বিরাট রকম ছিল্ !  hairpull
খসলো ট্যাকের স্বাস্থ্য,
টিপস দেয়াতে ব্যস্ত।

==
ব্রাঞ্চ = ব্রেকফাস্ট + লাঞ্চ (সকালে নাস্তা না খেয়ে একবারে দুপুরের খাবার খাওয়া)

সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৪

ছড়াকাঠিন্য

হারিয়ে গেছে ছড়া,
মাথায় ছন্দ খরা,
ক্লান্তি বিষাদ কড়া,
খাচ্ছে পাঠক ধরা।

মনটা বলে কাঁদি,
লিখতে ছড়া যদি,
ছড়ায় বর্জ্য লাদি,
হাসবে নাতি-দাদি।

কেমন করে মন,
ফুড়ুৎ উচাটন,
বলছি ডেকে শোন,
খুঁজছি চতূষ্কোন।

করছে না তো ক্লিক,
বিরক্তি ধিক্ ধিক্,
মাথায় ঘড়ির টিক,
আকাশটা ঝিকমিক।

জোরসে মারি ঠ্যালা,
আজকে সারাবেলা,
বিষম নিনাদ খেলা ...
দেখবো কে কার চ্যালা!

শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০১৪

বাড়াবাড়ি'র দূঃখ

সবে মিলে রে রে করে, বলছে যে কমাতে,
সুন্দর বেড়ে ওঠা, জোর করে দমাতে ... ...
আরে বাবা, বাড়ুক না; তোমাদের ক্ষতি কী?
দাবী-দাওয়া, হুমকীটা; দেবে নাকো যতি কি?

বেড়ে বেড়ে আকাশটা, ছুঁলে কী বা এসে যায়,
অসুবিধা নাই তব, নিশ্চয়ই দেবে সায়!
প্রতিদিন এক গান, রেকর্ডটা ভাঙ্গা এক,
আগে বেড়ে কেউ কবে, করেছে কি কামব্যাক?

কান পোঁকা হাঁসফাঁস, আর কত শোনা যায়,
জানো যদি উপায়টা, বলে যাও আমা তায়।
এইবার পিছু টান! হও কেন ভাগারাম?
বাড়াবাড়ি কমানোর, দিয়ে যাও সামাধান।

শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

সংযম

সদা ভাবে, কি যে খাবে, সারাদিন রাঁধে,
লোল ঝরে, ক্ষুধা স্মরে, মন রাঙা স্বাদে।
খাওয়া নাই, ফাঁকি তাই, কাজে কামে ঢিলা,
ভাবি তাই, কোথা যাই, মেজাজটা বিলা!

চেটে খায়, সন্ধ্যায়, আলিশান ভোজ,
ভাজা খায়, মজা পায়, হালিমটা রোজ।
ভুড়ি গোল, খেয়ে ঢোল, তবু রোল চায়,
ভূণা শোল, ঢিলা ঝোল, সাথে ঘোল খায়।

হরদম, সংযম, করে বুড়ো-খোকা,
করে ঢং, রেগে টং, বাজারেতে ধোকা!
বেশি দাম, হয়রাণ, তবু কেনা চাই,
এর নামই, সংযমী, মনে রাখা চাই!

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০১৪

বৃষ্টি

আঁধার কালো, অনেক ভালো, দিনের বেলায় রাত যেন,
নামবে ধারা, বাঁধন হারা, টাপুর টুপুর গান শোনো।

জানলা খুলে, কাজটা ভুলে, তাকিয়ে দেখি ঐ ঝরা,
থাকনা থেমে, ক্লান্তি ঘেমে, ভিজুক খাঁ খাঁ মন খরা।

তা-থৈ নাচে, সতেজ বাঁচে, মনমরা নয় মনকলি,
খানিক ক্ষণে, উদাস মনে, ভুলুক মনের ক্লেদ-কালি।

কড়াৎ বাজে, মনের মাঝে, জাগ্ শিহরন ভয় লাগা,
উত্তেজনায়, আমোদ বাঁচায়, অচিন ঘোরে ফের জাগা।

সোমবার, ৯ জুন, ২০১৪

দৃশ্যপট: নদী আর মানুষ

লাউ কদু কুমড়া, খোল ভরা নাওরে,
হাটবার ধরতে, কষে তরী বাওরে।
চ্যাং ব্যাঙ ফ্যাল ওরে, পাবদাটা রাখ ঐ,
শুটকিটা কাটে কেরে? সেই নাও সাদা ছই।

এঁকে বেঁকে ঢেউ কাটে, নাও বায় জোরসে,
গাঙ পাড় কাদাময়, বাবু চিৎ পড়ছে।
ঘুরে ঘুরে উড়ে ঐ, সাদা সাদা গাঙচিল,
পিচ্চিটা পাড় থেকে, নৌকায় মারে ঢিল।

ডুব দিয়ে ধরে মাছ, হাঁস পানকৌড়ি,
খায় দাদী ফোকলা, পান ছ্যাঁচা মৌরি।
জর্দার তেষ্টায়, বুড়া খোঁজে কৌটা,
নাইওরে যায় বুঝি, ও পাড়ার বৌটা।

উত্তাল উঠে ঢেউ, পথে নাকি গাঙ্গে,
এলো চুলে হেঁটে যায়, শাড়ি পরা ঢঙ্গে!
সাঁতারের পাল্লায়, ছেলেদের কোলাহল,
আঁড়ে দেখে খোকাহারা, মা'র চোখ টলমল।

==
এটা থেকে অনুপ্রাণিত।