বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৪

বিদায়ের অভিমান

একদম যাচ্ছি যে চলে আজ বাড়ি,
সুযোগ আর পাবি নাকো দিতে কোনো ঝাড়ি।
ভালবাসা স্মৃতিগুলো যদি মনে পড়ে,
ভেসে যাবে কিছু পরে, আঘাতের ঝড়ে।

খুঁজে খুঁজে এর পরে যদি কিছু পাস,
বেঁধে রাখ বাহুডোরে দুরে রেখে বাঁশ।
হয়তোবা উঁকি দিয়ে মাঝে যাব দেখে,
লোক বদলের মাঝে যদি কিছু শেখে ...

কভু যদি ভুলে দিস মোর জুতা পায়,
বুঝবি কী যন্ত্রণা জমা আছে তায় ...
অবুঝের ত্যাড়া ঘাড়ে বুঝেছিলি যা,
দেখে নিস কত ব্যথা দিয়েছিলো তা।

রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৪

হাটুরে জ্যামে বিদগ্ধ পংক্তিমালা

১।
খলবলিয়ে হাসছে দেখি, গোস্ত খাওয়ার দল,
ছাগল গরু কাটবে সবে, সবই ত্যাগের ছল।
বন্যা খুশির উপচে পড়ে, পশুর অবোধ কান্না,
রক্ত প্লাবন মধুর নাকি, চড়বে হাঁড়ির রান্না।

২।
রাস্তাটা ভরে গেছে গরু আর ছাগলে,
জ্যামে শান্তির বায়ু - কয় কোন পাগলে?

৩।
মেইন রাস্তায় পশুর হাটে,
নাইওর গেছে শৃংখলা,
যেমন ইচ্ছা যেথায় খুশি,
সভ্যতারে কাঁচকলা।

৪।
জুম্মা-দুপুর রাস্তা বন্,
লোকদেখানি মোল্লা,
কৈতে গেলে নামায় দিবো,
এক কোপে মোর কল্লা!

থাকুক জ্যামে আটকে সবাই,
হোক রোগী কি শিশু,
ধর্ম-বর্ম ভীষন ঝাঁঝের,
বলার আছে কিসু?!

৫।
ট্যাকের গরম বিরাট পশু,
ত্যাগের কি গো ছিরি,
এক দিনেতে হইলো প্রিয়,
গাঞ্জা নাকি ফিরি!

৬। ( রিপিট + কপি )
মনের পশুরে কর জবাই,
বাঁচে পশু, বাঁচে সবাই।

শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৪

হাবিজাবি

কিডা কিডা কবে জানি কিতা কতা কৈছে,
ইংরাজি গালাগালি, ম্যালা ভাব লৈছে ...
একবার বাটে পাই, চামে যদি মহাজন,
এমুনই সাইজ দিমু, রবে মনে আজীবন।

ফুটফাট ইংরাজি ঝাড়ে যবে আক্কাস,
ইসমাট ভাবে নিজে, লাগে নাকি ঝাক্কাস ...
আঁধারেও সানগ্লাস চোখ থেকে নড়ে না,
গরমেও সুট-টাই, গাধা গাছে ধরে না!

আপঝাপ চাপা ঝেড়ে মাঝে সাঝে ধরা খায়,
প্যান্টের খোলা চেন, সবে দেখে হাসে তায়!
ঝোল-ডাল-ভাত খাবে চাইনিজ কাঠিতে,
ঝড়ো হাওয়া স্ট্যান্ড ফ্যানে পরচুলা মাটিতে!

বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৪

ব্রাঞ্চ বিলাস

সিরকা পেঁয়াজ শশা,
ফুড শপেতে বসা,
ফুস্-পানি না লাচ্ছি?
বোরহানী আর কাচ্চি!

ডিম সাথে হাফ-চিকেন,
সাফ্-সুতরা কিচেন,
ঝোলের মাঝে চুল,
মাফ করা যায় ভুল?!

ফল, ফালুদা, জুস,
বিড়ির ধোঁয়া ফুস,
লালচে পানের পিক,
জর্দা ঘিলুর কিক্।

সবার শেষে বিল,
বিরাট রকম ছিল্ !  hairpull
খসলো ট্যাকের স্বাস্থ্য,
টিপস দেয়াতে ব্যস্ত।

==
ব্রাঞ্চ = ব্রেকফাস্ট + লাঞ্চ (সকালে নাস্তা না খেয়ে একবারে দুপুরের খাবার খাওয়া)

সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৪

ছড়াকাঠিন্য

হারিয়ে গেছে ছড়া,
মাথায় ছন্দ খরা,
ক্লান্তি বিষাদ কড়া,
খাচ্ছে পাঠক ধরা।

মনটা বলে কাঁদি,
লিখতে ছড়া যদি,
ছড়ায় বর্জ্য লাদি,
হাসবে নাতি-দাদি।

কেমন করে মন,
ফুড়ুৎ উচাটন,
বলছি ডেকে শোন,
খুঁজছি চতূষ্কোন।

করছে না তো ক্লিক,
বিরক্তি ধিক্ ধিক্,
মাথায় ঘড়ির টিক,
আকাশটা ঝিকমিক।

জোরসে মারি ঠ্যালা,
আজকে সারাবেলা,
বিষম নিনাদ খেলা ...
দেখবো কে কার চ্যালা!

শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০১৪

বাড়াবাড়ি'র দূঃখ

সবে মিলে রে রে করে, বলছে যে কমাতে,
সুন্দর বেড়ে ওঠা, জোর করে দমাতে ... ...
আরে বাবা, বাড়ুক না; তোমাদের ক্ষতি কী?
দাবী-দাওয়া, হুমকীটা; দেবে নাকো যতি কি?

বেড়ে বেড়ে আকাশটা, ছুঁলে কী বা এসে যায়,
অসুবিধা নাই তব, নিশ্চয়ই দেবে সায়!
প্রতিদিন এক গান, রেকর্ডটা ভাঙ্গা এক,
আগে বেড়ে কেউ কবে, করেছে কি কামব্যাক?

কান পোঁকা হাঁসফাঁস, আর কত শোনা যায়,
জানো যদি উপায়টা, বলে যাও আমা তায়।
এইবার পিছু টান! হও কেন ভাগারাম?
বাড়াবাড়ি কমানোর, দিয়ে যাও সামাধান।

শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

সংযম

সদা ভাবে, কি যে খাবে, সারাদিন রাঁধে,
লোল ঝরে, ক্ষুধা স্মরে, মন রাঙা স্বাদে।
খাওয়া নাই, ফাঁকি তাই, কাজে কামে ঢিলা,
ভাবি তাই, কোথা যাই, মেজাজটা বিলা!

চেটে খায়, সন্ধ্যায়, আলিশান ভোজ,
ভাজা খায়, মজা পায়, হালিমটা রোজ।
ভুড়ি গোল, খেয়ে ঢোল, তবু রোল চায়,
ভূণা শোল, ঢিলা ঝোল, সাথে ঘোল খায়।

হরদম, সংযম, করে বুড়ো-খোকা,
করে ঢং, রেগে টং, বাজারেতে ধোকা!
বেশি দাম, হয়রাণ, তবু কেনা চাই,
এর নামই, সংযমী, মনে রাখা চাই!