সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৩

খাদ্য বিষয়ক অক্ষমতা

পকেট যখন থাকতো ফাঁকা,
মনটা শুধু করতো খা খা,
রুচতো মুখে সব খাবারই,
হোক সে হোটেল কিংবা বাড়ি।

চাইলেও কি থাকতো উপায়,
খাইতে খাবার মন ভোলা,
মানিব্যাগের কয়টি টাকা,
বাস ভাড়াতে থাক তোলা।

চান্সটি পেলে হঠাৎ করে,
দাওয়াত কিংবা ফিস্ট হলে,
সাঁটিয়ে দিলাম উনিশ খানা,
পরটা আর চাপ গিলে।

কিংবা ঘরোয়ার খিচুড়ি,
একবারেতেই তিনটা ফুল,
চেটেপুটে সব খাওয়াতে,
পেটুক আমি হতাম কুল।

এমন করেই কাটলো সময়,
স্মৃতিময় সেই লোলঝরা,
বয়স ভারে, শরীর কাঁপে,
মানিব্যাগে নাই খরা।

পকেট এখন থাকছে ভরে,
চাইলে পারি তিন বেলা,
চাকুম চুকুম খাদ্য যত,
ভরতে পারে এই গলা।

হাসছে বুঝি ঐ বিধাতা,
পরিহাসটা অলক্ষ্যে,
কতই ব্যামো এই শরীরে,
ডায়েট করাই যে রক্ষে!

খাদ্য নিয়ে অক্ষমতা,
থেকেই গেলো সব কালে,
হইলো নাতো কোনোবারই,
টাইমিং যে ব্যাটে-বলে।

রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৩

ইদানিং … … – ০২

এক রাতেতে বুড়িমারী,
          ফেরৎ আরেক রাতে,
নয়শ কিলোর বেশি ঘুরেও,
          হয়নি ব্যাথা দাঁতে।

অফিস বসে টুপছি এখন,
          পা ফুলে যে ঢোল,
কাজের চাপে চ্যাপ্টা চিড়ে,
          হচ্ছে মাথা ঘোল।

ভাবছি ছুটে কখন যাবো,
          গড়ান দেবো খাটটাতে,
টলছে মাথা, চোখের ব্যাথা,
          টনটনিয়ে ঘাড়টাতে।

ভাবছি বালিশ, একটু মালিশ,
          করতো যদি কেউ এসে,
নাক ডাকিয়ে, ঘুম যে দিতাম,
          ছড়ার নেশা যাক ভেসে।

==

ফাঁকিবাজি করতে পারলাম কৈ,
ডেকেছিলো মিটিং এক বদ ব্যাটা ঐ।

==

পাইতে সেবা কপাল লাগে,
আমার কপাল ঠকঠকা;
আদর সোহাগ মুখেই থাকে,
স্বার্থগুলো ফকফকা।

কী আর করা, মানতে হবে,
জীবন টাতো এইরকম;
মা-ভাই গুলো নাইতো কাছে,
কন্যা অবুঝ, দিল্ রহম।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৩

স্মৃতিচারণ – ০৫

চোখ বুজে বসেছিনু, লম্বা যাত্রায়,
নাসিকার গর্জনে, ভিন্ন মাত্রায়;
কোত্থেকে হঠাৎ এক, অদ্ভুদ সুঘ্রান,
বরবাদ নিদ্রায়, অস্থির মন প্রাণ।

মনে হল আছে সে কি, স্পর্শের নিবিড়ে,
চোখ ভরে অশ্রুতে, অনুভব গভীর এ;
হাহাকার করে মন, আজ তুমি নাই হায়,
ভেসে যাই কত শত, স্মৃতির এক বন্যায়।

যদি দেখি চোখ ভরে, সবুজ এই প্রান্তর,
মনে পড় যে তুমি, বাঁধনের হে শেকড়;
কতবার চেয়েছিলে, ফিরতে যে এ বাড়ি,
হল না তো জীবনে, দিলে ওপারে পাড়ি।

অ্যাম্বুলেন্স যদি, দেখি কোনো রাস্তায়,
স্মৃতিগুলো অস্থির, মনে শুধু ধাক্কায়;
কি যে এক আক্ষেপ, পারিনি তো বাঁচাতে,
কার প্রিয় আজ হেথা, ছাড়ি পথ তড়িতে।

লেখাপড়া হোক আর, হোক সেটা প্রমোশন,
ছুটে গিয়ে বলি কারে, মিস করি যে ভীষন;
প্রেরণায় ছিলে মোর, চেপে নিজ কষ্ট,
কত কিছু বুঝি আজ, তুমি বাবা শ্রেষ্ঠ।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

ইদানিং … …

আঁকে উদাসীনে এক, পল্লীর ও বালিকা,
কল্পনাতে রঙিন, সাদা কালো ছবিটা;
বাঁকগুলো নদী যেন, যৌবন উছলায়,
ষোড়শী নায়িকা সে, চোখ ফেরানো যে দায়।

কাঁখে কলস নিয়ে, জলকে যায় ঘাটেতে,
অপেক্ষায় উত্তাপ, শুয়ে হাসে খাটেতে;
কল্পনা চিরকাল, হয় বুঝি এরকম,
চিন্তায় শীতেও, গরম ঐ বেশরম! 

তরুণীরা চিন্তায়, কী ভাবে তা কে জানে,
কালা, বেঁটে, ভুড়িয়াল, কভু আসে কি মনে?
পেতে যদি চাও তব, এমন এক শ্রেয়শী,
মানিব্যাগ মোটা হলে, হতে পারে প্রেয়সী।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৩

ছড়ার মূল্যহ্রাস ঠেকাতে …

ছড়াগুলো মনে হয়, পাচ্ছে না বেশি দাম,
স্মরি তাই টেকনিক, ডায়মন্ড যে মহান।
তাইতো ভাবছি, হবে চেপে ধরতে,
ডিমান্ড আর সাপ্লাই, মডিফাই করতে।

সাপ্লাই কমবে, দেড়দিনে একটা,
ডিমান্ডে ফলোয়ার, হীরকের ঝটকা।
স্টার সব লোকে লেখে, কত কত ছড়া রে,
ছড়িয়ে দেবো তা, ভাবে হামবড়া হে!

পাপারাজ্জি ভাড়াতে, নেবে কত স্ক্রিন শট,
প্রচারের ত্যানাতে, সবকিছু লাগে হট।
ছড়াবাজি ফরেভার, কত মান সম্মান,
স্পটলেস প্ল্যান এটা, কোলে ঝোল টেনে আন।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০১৩

জীবনে বাঁশ

গ্রেডগুলো পকেটে, মানিব্যাগে থাকে,
যত ভাল লিখুক না, দিতে হাত কাঁপে।
বাঁশগুলো সবি ফ্রি, সরকারী মাল,
চূণটুকু খসলেই, তুলে ফেলে ছাল।

বাঁশগুলো আছেলা, বড় বড় গিট্টু,
ভেসলিন রাখ তাই, পকেটেই এক্টু।
এরপরো আছে ভাই, সময়েরই বাঁশ,
কত শত ভ্যাকেশন, জান হাঁসফাঁস।

কোনমতে পেরিয়ে, বাঁশবন পাড়া,
শুকতলি হবে ক্ষয়, চাচা-মামা ছাড়া।
সিনিয়রে তবু ছিল, পাত্রেরই দাম,
বেকারে কেবা করে, মান সম্মান।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

না দেখলে মিস করবেন

ওটা হল ট্রেড মার্ক, লাইসেন্স বেকুবির,
বিনুদুনে এই ধারা, বাগদাদী কাহিনীর।

এসেছিলো লোকটা, খলিফার কাছেতে,
চাইবে যে অনুদান, মরে সে যে লাজেতে।
পথ মাঝে পেল সে, পানি সে কি অমৃত,
মশ্কটা নিল ভরে, খলিফাকে দেবে ট্রিট।

পথি মাঝে লাক ভাল, দেখা পেল খলিফার,
দূঃখের কথা বলে, দিল সেই উপহার।
খলিফা ঢালে সেটা, গলাতে এক ঢোক,
আসলেই দারুন এটা, রাখলাম এ তবারক।

যাও তুমি ফিরে বাড়ি, বাগদাদে কী হবে,
এই নাও মূদ্রা, দূঃখ কেটে যাবে।
সভাসদ সাথে যারা, হলো খুব হতবাক,
খলিফাটা করে কি! ক্লান্তিটা ঝেড়ে যাক।

গেলে পরে লোক সেই, সঙ্গিরা বলে তায়,
খুলে বল হে জনাব, কেন এই অভিপ্রায়!
খলিফা তব বলে, শুন মোর সভাসদ,
পানি যেটা দিয়েছে, স্বাদ তার অতি বদ।

হয়তো সে লোক থাকে, এমন এক এলাকায়,
পানির এই কোয়ালিটি, আরো নুন হবে তায়।
পাঠাতাম একে যদি, বাগদাদে নাও রেস্ট,
পথে গিয়ে দেখতো সে, পানি সেথা কত বেস্ট।

লজ্জায় মরে যেত, ভেবে এই উপহার,
ফিরালাম হেথা থেকে, এই হল সমাচার।
“না দেখলেই মিস’, যাদের এই কালচার,
বুঝে নাও থাকে কোথা, করবে কী? বল আর।


===
প্রথম প্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম