সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪

প্রতীক্ষায় নতুন দিন

নতুন আলোয় উঠুক জেগে, আরেকটি দিন সমুদ্দুর,
সম্ভাবনায় অসীম নিয়ে, ভণ্ডামিটা থাকুক দুর।
আবেগ চেপে আর বলোনা, মন রাখা লোক প্রিয়ংবদ,
শুভ্র হৃদে দেখলে যা তাই, বলতে হলে হোক বিপদ।
দ্বৈত-প্রমিত রাখ সরিয়ে, আজ থেকে হও সেই মহান,
বলছো যা তা নিজেও করো, কাজের মাঝে হোক প্রমাণ।
অহং ত্যাগে মানুষ বিচার, আজ থেকে হোক সর্বদাই,
উচ্চ নীচের বিভেদ রেখা, লুটিয়ে সমান হই সবাই।

রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৪

মেতে উঠি উৎসবে

ধূ ধূ মাঠ, পড়ে থাক, সব কাইত গরমে,
শুনলাম, কেবা হেথা, আসছে না শরমে!
বৈশাখী ঝড় এসে, দেয় যদি উড়িয়ে,
ভয় পাই, মজা নাই; যাচ্ছি কি বুড়িয়ে?

ছড়াদের আশে পাশে লাগে বুঝি খাট্টা,
লেজ নেড়ে, তেড়ে এসে, মেরে দেবে গাট্টা!
তাই কেউ আসলোনা, ছড়াগুলো শুকালো,
বিনা সেঁচ মরে ভুত, তারা সব লুকালো!

ঘুম সেরে, আড়মোড়া, ভেঙ্গে যাক গুড়িয়ে,
অলসতা ক্লেদ-ক্লেশ, ব্যাধি মূক পুড়িয়ে;
ফুট ফাট, ফেটে পড়, খৈ ফোটা কথাতে,
উৎসব, চল মাতি, জাগি ফুল ফোটাতে!

সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০১৪

জগাখিচুড়ি

অসার লেখা ফালতু বাত,
করছি হেথায় দিনকে রাত;
ভর্তা গাজর, শুটকি ঝাল,‌‌
হালুয়া মূলা, কলার ছাল।

মরিচ পোড়া কদবেলে,
কোপ্তা রসুন তেলতেলে!
তালমিছরি বিট লবন,
মাছের তেলে বাটারবন।

ঝোল খিচুড়ি, শুকনা দই,
মটর দানা, চিড়ার খই;
কাউন ম‌োয়া, তেঁতুল চাট্,
লাউয়ের বিচি, কচুর ডাঁট।

মিষ্টি বড়ই, পাকনা বেল,
চিমটি খানেক তিলের তেল;
পাপড় ভাজা, চটপটি,
মুরগী গুড়ের লটপটি।

চূণের পানি দুই ফোঁটা,
এলাচ, চিনি, পান বোঁটা;
এদের সাথে আমায় দিস,
ময়না পাখি, লইট্যা ফিশ।

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০১৪

লোকটা বড়ই শেয়ানা

লিখা লিখি করে না,
মিছামিছি নড়ে না,
লোকখানা সারাদিন বসে মারে ঝিম্

ক্ষিদে পেলে একবার,
ডাকাডাকি কারবার,
কে আছিস্, দিয়ে যা রে ঘিয়ে-ভাজা ডিম।

ব্যাটা বড় শান্ত,
ঝড়ে মন ক্লান্ত,
মনে মনে হাতি ঘোড়া কত মারে রোজ ... ...

ঝিমানোর ফাঁকে ফাঁকে,
আঁকিবুকি ছবি আঁকে,
ঢেউ তুলে হাঁটে কে রে? নেয় তার খোঁজ।

দেখে লোকে প্রতি রাতে,
গাছ-তলা ঠিকানাতে,
বিড়বিড় করে বকে, হাতে মুঠোফোন ...

তোমরা তো জান না,
ব্যাটা বড় শেয়ানা,
পাগলামো? নাকি চর? সন্দেহে মন।।

==
চর = জলকনা-চটকনা-চড় কিংবা চোর নয়, নদীর ধূ-ধূ বালু চর নয়, এ হল স্পাই অর্থাৎ গুপ্তচর।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৪

খুকির সকাল

সাত সকালে চড়ুই পাখি, কিচির মিচির ডাকে,
ওঠ্ মা-মনি, পাঠশালা যা, খুকির বাবা হাঁকে।
ঘুম ঘুমেতে গড়ান দিয়ে, ঝামটা মারে মুখ,
উঠবো না না, ধ্যাত্তারিকা, ঘুমের মাঝে সুখ!

যাওতো তুমি! ইশ্কুলেতে আর যাবোনা আমি,
ওঠ্ এখনি, হাতমুখ ধোও, আর নয় শয়তানি।
চাওনা কেন সেথায় যেতে, খাও কি বকা রোজ?
আজই গিয়ে মিসের কাছে, নিচ্ছি আমি খোঁজ।

আমিই যাব তোমার ক্লাশে, সেটাই কি গো চাও?
শিখবো লেখা, ছবি আঁকা, টিফিন আমায় দাও।
এই না শুনে, উঠলো খুকি, রেডি হওয়ার তাড়া,
ভিষন মজার ইশ্কুল তাঁর, করবে না হাতছাড়া।

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৪

ছাতা হারানোর দিনে ... ...

ছাতাটি থাকতো চুপচাপ শুয়ে,
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরতে,
নিশ্চিত মনে ভরসা ছিলেন,
স্মৃতির প্রতিটি পরতে।

মোদের জীবন করতে রঙীন,
থাকলেন সাদাকালো;
বটগাছ যথা, ছায়া শ্যামলিমা,
নিকষ আঁধারে আলো।

জলসিঞ্চনে সিক্ত কপোল,
হারানো ছাতার শূণ্যতায়,
মায়াহীন রোদে নিরূপায়ে বাড়ে,
অশ্বত্থ একা শ্মশ্রুধারায় ... ...

==
শব্দার্থ:
শ্যামলিমা - greenery, সবুজ আচ্ছাদন (?)
কপোল [ kapōla ] বি. গণ্ড, গাল। [সং. √ কপ্ + ওল]। ̃ কল্পনা বি. অবান্তর কল্পনা; গালগল্প। ̃ কল্পিত বিণ. মনগড়া (কপোলকল্পিত গল্প)।
অশ্বত্থ [aśbattha] বি. বড় গাছবিশেষ, পিপুল। [সং. ন + শ্ব + √ স্হা + অ]।
শ্মশ্রু [śmaśru] বি. 1 দাড়িগোঁফ; 2 (বাং.) দাড়ি। [সং. শ্মন্ + √ শ্রি + উ]। ̃মণ্ডিত, ̃ল, ̃শোভিত বিণ. শ্মশ্রুময়, দাড়িগোঁফে ঢাকা (শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখমণ্ডল)।

ব্যাখ্যা:
ঠিক ৪ বছর আগে এই দিনে বাবাকে হারিয়েছিলাম ... ... শেষ বয়সে চুপচাপ শুয়ে বসে কাটালেও, আমার সমস্ত অর্জনের প্রেরণা ছিলেন উনি। ওনাকে হারিয়ে অনুভব করলাম মাথার উপর থেকে অন্যতম ভরসার ছাতা সরে গিয়েছে। বেচারা সারাজীবন আমাদের জন্য কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বটবৃক্ষের মত ছায়া হয়ে ছিলেন। আজ নিজেকেই ধীরে ধীরে বটবৃক্ষ (অশ্বত্থ) ভূমিকায় নামতে হচ্ছে ...

সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৩

খাদ্য বিষয়ক অক্ষমতা

পকেট যখন থাকতো ফাঁকা,
মনটা শুধু করতো খা খা,
রুচতো মুখে সব খাবারই,
হোক সে হোটেল কিংবা বাড়ি।

চাইলেও কি থাকতো উপায়,
খাইতে খাবার মন ভোলা,
মানিব্যাগের কয়টি টাকা,
বাস ভাড়াতে থাক তোলা।

চান্সটি পেলে হঠাৎ করে,
দাওয়াত কিংবা ফিস্ট হলে,
সাঁটিয়ে দিলাম উনিশ খানা,
পরটা আর চাপ গিলে।

কিংবা ঘরোয়ার খিচুড়ি,
একবারেতেই তিনটা ফুল,
চেটেপুটে সব খাওয়াতে,
পেটুক আমি হতাম কুল।

এমন করেই কাটলো সময়,
স্মৃতিময় সেই লোলঝরা,
বয়স ভারে, শরীর কাঁপে,
মানিব্যাগে নাই খরা।

পকেট এখন থাকছে ভরে,
চাইলে পারি তিন বেলা,
চাকুম চুকুম খাদ্য যত,
ভরতে পারে এই গলা।

হাসছে বুঝি ঐ বিধাতা,
পরিহাসটা অলক্ষ্যে,
কতই ব্যামো এই শরীরে,
ডায়েট করাই যে রক্ষে!

খাদ্য নিয়ে অক্ষমতা,
থেকেই গেলো সব কালে,
হইলো নাতো কোনোবারই,
টাইমিং যে ব্যাটে-বলে।